বন্দে মাতরম্
এক যুগবাহিত রাষ্ট্রীয় জীবনবোধ
বিদ্যুৎ মুখার্জি ও ড. কল্যাণ চক্রবর্তী
মর্যদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীরামচন্দ্র ভ্রাতা লক্ষ্মণকে বলেছেন, ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী’, অর্থাৎ মাতৃভূমি স্বর্গ থেকেও শ্রেষ্ঠ। বর্তমান যুগের ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মাতৃভূমিকে অধিক মহিমায় মণ্ডিত করে আমাদের সমবেতভাবে দর্শন করালেন ‘বন্দে মাতরম্’ মন্ত্র। মন্ত্রের কল্যাণে দেশব্যাপী অখণ্ড বোধের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলো দেশ জননীই যে মা। মাতৃকা সাধনার এক অনবদ্য দর্শন। মায়ের যে অনন্ত রূপ! দেশমাতৃকাও একটি রূপ এবং দেশের সেবা করলেও তাঁকেই সেবা করা হয়। তিনিই দেশভক্তির অর্ঘ্য গ্রহণ করেন। তাই ‘ভারতমাতা’ রূপে ধ্যানই হোক জীবন সাধনা। দেশমাতৃকার নিত্য
আরতিই হোক সর্বকর্ম। ‘বন্দে মাতরম’ সেই বোধে সঞ্জাত এক মহামন্ত্রধ্বনি। যে মন্ত্র পাঠ করে অমৃতলোকের পথযাত্রী না হয়ে মাতৃভক্তরা মৃত্যুলোকে প্রবেশ করতে বিন্দু মাত্র সময় নেন না। দেশকে সাজাতে ব্যস্ত থাকেন তাঁর প্রিয় সন্তানেরা। ব্রহ্মলোক প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষাকে অনায়াসে দূরে সরিয়ে ফাঁসির রজ্জুকে পরম আগ্রহে বরণ করে নেন তাঁরা।
ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণে বঙ্কিমচন্দ্রের তিনটি ইতিহাস- আশ্রিত উপন্যাসের গুরুত্ব অসীম। এগুলি হলো আনন্দমঠ (১৮৮২), দেবীচৌধুরাণী (১৮৮৫) এবং সীতারাম (১৮৮৭)। আনন্দমঠ উপন্যাসের অন্তর্গত ‘বন্দে মাতরম্’ মন্ত্র মাতৃবন্দনার সর্বোচ্চ ভৌম-দর্শন। দেশকে ‘মা’ বলে সম্বোধন; যে মা আমায় আশ্রয় দিয়েছেন, দিয়েছেন খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান; যে ভূমিতে বড়ো হয়ে পেয়েছি সনাতন সংস্কৃতির সুদীর্ঘ শিকড়; যে মা আমার অন্তরাত্মা জাগ্রত করতে,
ঈশ্বর উপলব্ধি করতে সহায়ক হয়েছেন- তারই বন্দনা ‘বন্দে মাতরম্’। এই মহামন্ত্রপাঠে তাঁরই পূজার্চনা।
‘বন্দে মাতরম্’ শব্দটি পরবর্তীকালে ভারতের দুই ধারার বিপ্লবীদেরই রণধ্বনি হয়ে উঠেছিল। দেশপ্রেমিকেরা এই মহান ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে ইংরেজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে, সুদূর নির্বাসনে অথবা ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ দিয়েছেন। তবে এই গানটি লেখা হয়েছিল উপন্যাস রচনার আরও আগে ১৮৭৫ সালে। ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে তা সৌকর্য বিস্তার করে এক অভূতপূর্ব অনুভূতির পাঠ হয়ে রইলো। এরই মধ্যে ১৮৭৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মুর্শিদাবাদ জেলার
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বহরমপুরে কর্মরত অবস্থায় কর্নেল ডাফিন সাহেবের দ্বারা অকারণে নিগৃহীত হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। আইনের গণ্ডিতে দাঁড়িয়ে তার প্রতিশোধ নিয়েছিলেন তিনি, শেষপর্যন্ত আদালতে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন কর্নেল। তবে ব্রিটিশ শক্তির শোষণের ফলেসামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশে দেশবাসীর মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ, জ্বালা, যন্ত্রণা, অপমান, লাঞ্ছনা ও পুঞ্জীভূত বেদনা স্বচক্ষে দেখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। ব্যক্তিগত লাঞ্ছনা তাঁকে আরও বিক্ষুব্ধ করে তুলল। তারই পটভূমিকায় ১৮৭৫ সালে তাঁর ‘বন্দে মাতরম্’ রচনা। ১৮৭৪ সালে রচিত হয়েছে ‘লোকরহস্য’ যেখানে বঙ্কিমচন্দ্র শাণিত ব্যঙ্গ, বিদ্রূপ ও উপহাসের মধ্যে দিয়ে ‘ব্রিটিশ বিদ্বেষ’ ও ক্ষোভ পুঞ্জীভূত করে সাহিত্যের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরছেন। বঙ্কিমচন্দ্রের এই মানসিকতার সূচনা ঘটে ১২৮১ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে। ‘কমলাকান্ত’-র দপ্তরেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। অনেকে বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলার লালগড় রাজবাড়িতে বসে ‘বন্দে মাতরম্’ লিখেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র।
‘আনন্দমঠ’ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালের ১৫ ডিসেম্বর। তাঁর আগে ১২৮৭ বঙ্গাব্দের চৈত্রমাস (১৮৮১ সালের মার্চ-এপ্রিল) থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠমাস পর্যন্ত অগ্রজ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় ধারাবহিকভাবে তা প্রকাশিত হয়। ১২৮৮ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ্যার পর ছ’ মাসের জন্য ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা বন্ধ থাকে। ১২৮৯ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাস থেকে পুনরায় ‘বঙ্গদর্শন’ প্রকাশিত হলে জ্যৈষ্ঠ সংখ্যাতে গিয়ে তা শেষ হয়। অর্থাৎ মোট নয়টি সংখ্যায় ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্রের জীবিতকালে ১৮৮২, ১৮৮৩, ১৮৮৬ (দু’টি) এবং ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে মোট পাঁচটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়। এতটাই তা জনপ্রিয় হয়েছিল।
তদানীন্তন সময়ের প্রায় শতবর্ষ পূর্বে ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) পটভূমিকায় ‘আনন্দমঠ’-এর কাহিনি নির্মিত। ইতিহাসকেন্দ্রিক উপন্যাস নয়, তবে ইতিহাসের পটভূমিকায় লেখা। উপন্যাসের দেশ-কাল ইতিহাসের অনুগত, যুগের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা সঠিকভাবে প্রতিফলিত। বঙ্গের সন্ন্যাসী বিদ্রোহের কিছু পরিচয় আছে। তবে বঙ্কিমের সন্ন্যাসীরা বৈষ্ণব, অথচ শক্তিই তাদের আরাধ্যা। বঙ্কিমচন্দ্র ইতিহাসের উপাদান ব্যবহার করলেন কিন্তু ইতিহাস অনুসরণ করলেন না। ইতিহাস এই উপন্যাসের বিষয় ভাবনাও হলো না। কিন্তু স্বদেশপ্রেমের উজ্জ্বল শিখায় আনন্দমঠের প্রতিটি কক্ষ আলোকিত
হলো। স্বদেশবোধ, মাতৃভাবনা এবং বৃহত্তর মানবিকভাবনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বঙ্কিমচন্দ্র লিখলেন ‘আনন্দমঠ’। প্রকাশের পর ধীরে ধীরে সমগ্র ভারতে স্বদেশচিন্তার বিস্ফোরক পদার্থে একে একে বহ্নি সংযোগ করল। স্বদেশি আন্দোলনে উপন্যাসটি হয়ে উঠল তূর্যধ্বনি। কারণ উপন্যাসের মন্ত্র ও প্রতীক ‘বন্দে মাতরম্’ স্বদেশ দেবতার নতুন ঋকমন্ত্র। দেশজননী এর দেবতা। দেশভক্তিই এর সাধ্যসাধনা।
একটি জাতির আত্মজাগরণের প্রতীক হয়ে উঠল আনন্দমঠ। একটি জাতির পুনরুত্থান। প্রশাসনের নিগড় থেকে আত্মরক্ষা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার সাধনমন্ত্র হলো ‘বন্দে মাতরম্’। প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাহুবল ও মনোবল প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করল এই মন্ত্র। আর সারা ভারতের বজ্রবিদ্যুৎবাহী গ্রন্থ হয়ে উঠল ‘আনন্দমঠ’। ১৮৭৬ সালে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন স্থাপিত হয়, তারও অনুপ্রেরণা হয়তো ‘বন্দে মাতরম্’ মন্ত্র। এদিকে বঙ্কিমচন্দ্রও নিজেকে প্রকাশ করে চলছেন।
কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ‘পিতৃস্মৃতি’ গ্রন্থে লিখছেন, ১৮৯৬ সালে কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম্’ প্রথম গাওয়া হয়। তখন বঙ্কিমচন্দ্র প্রয়াত হয়েছেন। অধিবেশন বসেছে কলকাতার বিডন স্কোয়ারে, যা ঠাকুর বাড়ির কাছে। রবীন্দ্রনাথের উপর ভার পড়েছে, গানের বাবস্থা করবার। তিনি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম্’-এ সুর বসালেন। কংগ্রেসের অধিবেশনে একা এই গান গাইলেন, সরলা দেবীচৌধুরানী অর্গান বাজালেন। তখন মাইক আবিষ্কৃত হয়নি।
রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠ যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই প্যান্ডেলের বিপুল জনতার শেষপ্রান্ত পর্যন্ত পরিষ্কার শোনা গেল। কংগ্রেসের অভ্যন্তরেও ‘বন্দে মাতরম্’-এর এই সৌকর্য এক নতুন যুগের শুভ সূচনা করলো। ভগিনী নিবেদিতা বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’ থেকে এই মাতৃমন্ত্র তুলে এনে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করে দিলেন। ১৯০৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে নিবেদিতা পরিকল্পনা করলেন জাতীয় পতাকার। তাঁরই উৎসাহে বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা চওড়া লাল চতুষ্কোণাকার পৃষ্ঠভূমির উপরে সোনালি সুতার বজ্র রচনা করে দু’ধারে বাংলায় ‘বন্দে মাতরম্’ লিখে দিলেন। মহাশক্তি ও আত্মবলিদানের অভিজ্ঞান চিহ্ন ‘বজ্র’। এবার তা দেশমাতৃকাকে দীপ্ত সম্বোধনে একীভূত হলো। বিপ্লবী আন্দোলনের গুপ্ত সংগঠনে নিবেদিতার ভূমিকার বিষয়ে আচার্য জগদীশ চন্দ্র তাঁকে বললেন, ‘বজ্র সবসময় কালো মেঘের আড়ালে থাকবে এবং আকাশের কোন প্রান্ত হতে সেই অস্ত্র ছুঁড়ে মারা হলো তা যেন শাসক জাতি জানতে না পারে।’ পরবর্তীকালে ‘মন্ত্রের সাধন’ হলো প্রতিজ্ঞা। রংপুরের রাস্তায় ‘বন্দে মাতরম্’ গান করার জন্য দীনেশ রায় ওরফে প্রফুল্ল চাকী সরকারি স্কুল থেকে বিতাড়িত হলেন। ক্ষুদিরামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গাড়িতে তোলবার সময় চিন্তান্বিত না হয়ে তিনি উচ্চৈঃস্বরে ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি দিলেন। লোকায়ত সংগীত রচিত হলো: ‘তোরা প্রাণ খুলে বল ‘বন্দে মাতরম্’। তোদের ঘুমের নেশা ভাঙ্গিয়ে দিলে ক্ষুদিরামের একটি বম্।’
এমনকী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা এবং জন্মসূত্রে দেশপ্রেমিক ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার ছাত্রজীবনে বন্দে মাতরমের উৎসাহ ও প্রচার থেকে দূরে থাকতে পারেননি। ১৯০৭ সালে, কেশব তার স্কুলে সরকারি পরিদর্শকের সামনে বন্দে মাতরম্ধ্ব নি দিয়েছিলেন এবং এর শাস্তি হিসেবে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এটি ছিল রিসলে সার্কুলার নামক অত্যাচারী আদেশের বিরুদ্ধে যা জনসাধারণের বন্দে মাতরম্ ধ্বনিকে নিষিদ্ধ করেছিল।
তবে, বন্দে মাতরমের প্রচার বন্ধ করতে সরকার যতই চেষ্টা এবং সতর্কতা অবলম্বন করুক না কেন, বাস্তবে এর প্রভাব ও প্রচার দিন দিন বেড়েই চলেছিল। পুলিশি দমন বন্দে মাতরমের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
মৃত্যুর পর কোনো ঈশ্বরের নাম নিও না, পারলে ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি দিও। ১৯৩০ সালে রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানে বিপ্লবীদের রিভলবারের গুলিতে মৃত্যু হয় লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিম্পসনের। অলিন্দের নিঃস্তব্ধতায় সেদিন বিনয়-বাদল-দীনেশের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম্’। ১৯৩১ সাল, বিপ্লবী দীনেশের জেলের কুঠুরি থেকে ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত রাস্তাটুকু ধ্বনিত হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম্’। ১৯৪২ সালে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের সময় ৭৩ বছরের বৃদ্ধা স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা ‘বন্দে মাতরম্’ ধ্বনি উচ্চারণ করতে করতে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
পার্শি সম্প্রদায়ের মাদাম ভিকাজি রুস্তম কামা জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে প্রথমবার ‘জাতীয় পতাকা’র রূপদান করলেন সেখানে দেবনাগরী হরফে লেখা হয়েছিল ‘বন্দে মাতরম্’। প্যারিস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল দেশাত্মবোধক মুখপত্র ‘বন্দে মাতরম্’ পত্রিকা। সেখানে মাদাম কামা আহ্বান করলেন, আমাদের শত্রুরাই বাধ্য করছে আমাদের হিংস্র হতে। ভারতের স্বাধীনতাকামী বীরযোদ্ধারা ইংরেজদের দ্বারা দুষ্কৃতকারী বলে কেন ধিকৃত হবেন? ভারতবাসীর বিপ্লব-প্রচেষ্টা অতি পবিত্র। তাই ‘বন্দে মাতরম্’ এক ভারতীয় যুগবাহিত জীবনবোধ। এটি সংস্কৃত-বাংলা মিশ্রভাষায় লেখা একটি গান গানটির টেক্সট ও বন্দনাগীতির মধ্যে একটি জাতীয় মূর্তিকল্প প্রকাশিত। শ্রীঅরবিন্দ ‘বন্দে মাতরম্’ গানটিকে ‘বঙ্গদেশের জাতীয় সংগীত’ বলে উল্লেখ করেছেন। বিপ্লবী হেমচন্দ্র ঘোষের মতে, ‘বন্দে মাতরম্’ মন্ত্রটি জাতিগত; ব্যক্তিগত নয়, ব্যক্তিবিশেষের জন্য নয়। অন্য সকল মন্ত্র যেমন Individual, আর বন্দে মাতরম্ মন্ত্রটি National। ঋষি শ্রীঅরবিন্দ বলেছেন-‘Earlier Bankim was a novelist only, later Bankim is a Rishi বঙ্কিমচন্দ্র এই যুগের ঋষি। ‘বন্দে মাতরম্’ মন্ত্রটির উদগাতা তিনি।
‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতির জীবনমন্ত্ররূপে স্বীকার করেছেন ভগিনী নিবেদিতা, ঋষি অরবিন্দ, ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়, লোকমান্য তিলক, বিপিনচন্দ্র পাল, লালা লাজপত রায়, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বীর সাভারকার, রাসবিহারী বসু, যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বরপ্রসাদ শাস্ত্রী, অবনীন্দ্রনাথ, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ ব্যক্তিত্ব। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন- ‘Read Bankim Chandr – Bankim Chandra and Bankim Chandra only.’
তথ্যসূত্র:
১. পশ্চিমবঙ্গ, বঙ্কিম সংখ্যা।
২. অসিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
৩. বিশ্বনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ২০১৪, ভারতের সশস্ত্র স্বাধীনতা
সংগ্রাম, র্যাডিক্যল, কলকাতা, পৃষ্ঠা-৩৯, ৬৯।
৪. কালীচরণ ঘোষ, ২০১৭ (প্রথম প্রকাশ ১৯৭৩), জাগরণ ও
বিস্ফোরণ দ্বিতীয় খণ্ড, র্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৩২-৩৪।
৫. শৈলেশ দে সম্পাদিত অগ্নিযুগ’ গ্রন্থের অন্তর্গত, হেমচন্দ্র ঘোষ
লিখিত ‘বীজমন্ত্র’ প্রবন্ধ।
৬. ‘সংস্কার ভারতী’-পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দে মাতরম্’ সংক্রান্ত
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টসমূহ, ২০২৪-২৫।

















