ভারতের জনজাতি সমাজ ভারতীয় সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ
প্রণবজ্যোতি ভট্টাচার্য
ভারতের জনজাতি সমাজ ভারতীয় সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। শাসন আর শোষণ চালাতে গিয়ে ভারতাত্মার এই অঙ্গটাই কেটে দিয়েছিল ব্রিটিশ শাসক। ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পলিসি নিয়ে যেভাবে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসক ভারতের বুকে রোপণ করেছিল হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিদ্বেষের বিষবৃক্ষ, ঠিক সেভাবেই হিন্দুদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল জনজাতিদের। ব্রিটিশ শাসন তো বটেই, তার পর স্বাধীন ভারতের কংগ্রেস সরকারের শাসনকালেও উপেক্ষিতই ছিলেন জনজাতি সমাজের মানুষরা। দীর্ঘদিনের সেই বঞ্চনার ফলেই স্বাধীন ভারতে মাথাচাড়া দিয়েছিল মাওবাদীরা। যাদের কেবল বাগে আনাই নয়, প্রায়-নির্মূল করে ফেলেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার।
অথচ, এই জনজাতির মানুষরাই ভারতীয় সত্তার শেকড়। সেই শেকড়েই বিষ ঢেলে দিয়ে ভারতভূমিকে বিষাক্ত করতে চেয়েছিল লুঠেরা ইংরেজের দল। শেষপর্যন্ত তারা ব্যর্থ হলেও চালিয়ে গিয়েছিল বিদ্বেষের বীজ বপনের কাজ। তার পরেও শাসকের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতিরক্ষা এবং দৈনন্দিন জীবনে যাতে স্বতন্ত্র জীবনযাত্রা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে তার জন্য তাঁরা নানা সময় ব্রিটিশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছেন। ব্রিটিশের অত্যাধুনিক হাতিয়ারের কাছে তাঁদের তির-ধনুকের মতো পুরানো দিনের অস্ত্র হয়তো হার মেনেছে বারবার, তবে তার পরেও হাল ছাড়েননি তাঁরা।
ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য জনজাতীয় বিদ্রোহগুলির মধ্যে অন্যতম হলো কোল বিদ্রোহ। ভারতের ছোটনাগপুর এলাকার বাসিন্দা এই কোলরা। বণিকের ছদ্মবেশে আসা ব্রিটিশদের হিন্দুস্থানে পা পাখার আগে পর্যন্ত তাঁরা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী প্রধানদের অধীনে সম্পূর্ণভাবে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতেন। ব্রিটিশরা শাসন কবজা করেই তাঁদের এই অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। জনজাতি নয় এমন মহাজন, জমিদার ও ব্যবসায়ীদেরও তারা লেলিয়ে দিয়েছিল জনজাতিদের জঙ্গলের অধিকার হরণ করতে। ব্রিটিশ আশ্রিত জমিদারের পেটে চলে যায় জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রাণের জমি-জিরেত, অরণ্য সম্পদ। যার
জেরে ক্রমশ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়তে থাকেন বনাঞ্চলে বাস করা এই মানুষরা। দারিদ্র্যের কারণে তাঁরা কার্যত পরিণত হন বন্ডেড লেবারে। নিজেদেরই জমিতে ভূমিহীন শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতে বাধ্য হন তাঁদের অনেকেই। ব্রিটিশ শাসনে তাঁদের দুর্দশা আরও বেড়ে যায়। এসব পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুনেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৮৩১ সালে। ব্রিটিশ সরকার ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন তাঁরা। বছর দুয়েক ধরে চলা এই কোল বিদ্রোহের জেরে প্রাণ হারায় অনেক অ-উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষও। তাদের ঘরবাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কোলদের এই সশস্ত্র বিদ্রোহ নির্মমভাবে দমন করেছিল ব্রিটিশ শাসক। কোলদের রুদ্রমূর্তি এবং ভয়াবহ বিদ্রোহ দমন করতে কলকাতা ও বারাণসী থেকে তলব করতে হয়েছিল ব্রিটিশ সেনাদের। এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বুধু ভগত।
ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সাঁওতাল সমাজের মানুষরাও। ইতিহাসে এটাই ‘সাঁওতাল বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত। ইতিহাসবিদদের মতে, ব্রিটিশ সরকারের
বিরুদ্ধে ভারতের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনজাতি আন্দোলন ছিল এটাই। ১৭৯৩ সালে যখন বঙ্গে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয়, তখন সাঁওতাল জনজাতির লোকেদের শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
এজন্য তাঁদের মজুরি কিংবা খাজনামুক্ত জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসক তাঁদের সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না করেই শাসনের অছিলায় শুরু করে শোষণ। এর পরেই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হন সাঁওতালরা। লখিমপুরে সাসানের বীর সিংহের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো সংগ্রাম শুরু করেন
তাঁরা। দ্বিতীয়বার তাঁরা যুদ্ধ করেছিলেন ১৮৫৫-৫৬ সালে। এই যুদ্ধের সময় সাঁওতালরা দখল করে নিয়েছিলেন রাজমহল ও ভাগলপুরের মধ্যবর্তী অঞ্চলগুলি। এই সময় আন্দোলনকারীদের প্রধান লক্ষ্যই ছিল যেনতেনপ্রকারে ঘোচাতে হবে বিদেশি শাসনের গ্লানি। সাঁওতালদের এই সর্বাত্মক সংগ্রামের ডাক দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল ওড়িশা ও বিহারের বীরভূম, হাজারিবাগ, সিংভূম, পুরুলিয়া ও মুঙ্গের জেলায়। ১৮৫৫ সালে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সিধু মুর্মু ও কানু মুর্মু। এঁরা ১০ হাজারেরও বেশি সাঁওতালের বাহিনী তৈরি করে এলাকা থেকে ব্রিটিশ শাসনকে উৎখাত করে তাঁদের নিজস্ব শাসন ব্যবস্থা চালু
করেন। সংগ্রামের এই পর্বে সাঁওতালরা ভাগলপুর ও রাজমহলের মধ্যে ডাক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। হামলা চালান ব্রিটিশ আশ্রিত জমিদার, মহাজন, রেল কর্তা ও ব্রিটিশ শাসকদের বাসভবনে। তবে সাঁওতালদের এই আন্দোলনের জেরে প্রথমে খানিক পিছু হটলেও, ১৮৫৬ সালে ইংরেজরা
নির্মমভাবে দমন করে জনজাতিদের এই সংগ্রাম।
ব্রিটিশদের রুখে দাঁড়িয়েছিল খোন্দ জনজাতির মানুষরাও। ভারতে ব্রিটিশ আসার আগে এই উপজাতির মানুষ ভোগ করতেন স্বায়ত্তশাসন। এঁদের দখলে ছিল বঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত বিস্তীর্ণ বনভূমি এলাকা। তাঁদের রাজপাট মূলত দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ডে। ব্রিটিশদের শোষণমূলক বন-নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা। নেতৃত্ব দেন চক্র বিসোই। ১৮৩৭ থেকে ১৮৫৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে চলা এই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন ঝুমুসার, কালাহান্ডি ও পাটনার
জনজাতি জনগোষ্ঠীর মানুষও। রাধাকৃষ্ণ দগুসেনার নেতৃত্বে কিছু আঞ্চলিক গোষ্ঠীও তাঁদের সমর্থন করেছিল। ১৯৫৫ সালে বন্দি করা হয় চক্র বিসোইকে। তার পরেই কমে যায় আন্দোলনের তীব্রতা।
উল্লেখ্য যে, ১৭৮৯ থেকে ১৮৩২ সালের মধ্যে মুণ্ডারা মহাজন ও ব্রিটিশ শাসকের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রায় সাতবার সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর অনেক মুণ্ডারা উন্নত ভবিষ্যতের আশায় ‘ইভাঞ্জেলিক্যাল লুথেরান মিশনে’র পক্ষে সায় দিয়েছিলেন। যদিও পরে অনেকে এই মিশনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। যখন তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন যে এই মিশনারিরা তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি লাভ দিতে পারবে না, তখন তাঁরা আরও বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন। এই আন্দোলনের নাম ছিল ‘সরদারিলাদাই’ বা ‘নেতাদের যুদ্ধ’। আন্দোলনকারীরা তাঁদের জমিতে মুণ্ডা ঐতিহ্যবাহী নেতাদের আধিপত্য
প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তাঁরা ‘খুনটকাট্টি ব্যবস্থা’ পুনরুজ্জীবিত করার জন্যও লড়াই করেছিলেন। তবে এই আন্দোলনগুলি যোগ্য নেতার অভাবে বিশেষ ছাপ ফেলতে পারেনি। ১৮৯৯ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন ভগবান বীরসা মুণ্ডা। পুনরায় আশার দিগন্তে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখতে শুরু
করেন তাঁরা। তাঁরা ব্রিটিশদের থানা, গির্জা এবং অন্যান্য সম্পত্তি দখল করেন। ১৯০০ সালে ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে বীরসাকে। তাঁকে রাখা হয়েছিল জেলে। মাত্র ২৫ বছর বয়সেই কলেরায় ভুগে জেলেই মৃত্যু হয় তাঁর।
ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিলেন ওঁরাও সমাজের মানুষরাও। ১৯১৪ থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত ওঁরাওদের এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তানা ভগত।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই আন্দোলন ছিল কেবল একটি ধর্মীয় আন্দোলন। পরে তাঁরা সত্যাগ্রহ বা আইন অমান্য আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ব্রিটিশ শাসনের কর ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। ইতিহাসবিদদের মতে, এই আন্দোলন এক ধরনের ‘সাংস্কৃতিক’ আন্দোলন। তবে ভগতরাও গান্ধীজীর মতো অহিংসার পূজারি
ছিলেন। শেষপর্যন্তও এই বিদ্রোহও নির্মমভাবে দমন করে ব্রিটিশ শাসক।
রাম্পা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অঙ্গুরি সীতারাম রাজু। বর্তমান অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম ও পূর্ব গোদাবরী জেলায় দানা বেঁধেছিল এই আন্দোলন। এএস রাজু বঙ্গের বিপ্লবীদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, যা তাঁকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে প্রেরণা দিয়েছিল। এই বিদ্রোহ ১৯২২ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অঙ্গুরি ও তাঁর সমর্থকরা অনেক থানায় পিকেটিং করেছিলেন। অস্ত্র ও গোলাবারুদের দখল নিতে হত্যা করেন একাধিক আধিকারিককে।
এই আন্দোলনের প্রতি স্থানীয় জনগণের একটা বড়ো অংশেরই সমর্থন ছিল। কড়া হাতে এই আন্দোলনও দমন করে ব্রিটিশ পুলিশ।
এসব সংগ্রামে সংগঠিত পাশাপাশি আরও কয়েকটি জনজাতি সংগ্রামে সংঘটিত হয়েছিল ইংরেজদের দেশছাড়া করতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, খাসিয়া সংগ্রাম, আহোম সংগ্রাম এবং সিংফোস সংগ্রাম। বার্মিজ যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা গারো ও জয়ন্তিয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল দখল করে। ইংরেজরা
খাসিয়া অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে একটি রাস্তা তৈরি করতে চেয়েছিল। মূলত এর বিরুদ্ধেই ফুঁসে ওঠেন খাসিয়া জনজাতির লোকেরা। তাঁদের এই সংগ্রামের নেতৃত্বে দিয়েছিলেন তিরুত সিংহ। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন গারোরাও। লড়াই চলে দীর্ঘ চার বছর ধরে। শেষমেশ ১৮৩৩ সালে কড়া হাতে তাদের দমন করে
ব্রিটিশ শাসক।
ব্রিটিশ শাসকের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন আহোমরাও। তাঁদের এই সংগ্রাম ইতিহাসে আহোম বিদ্রোহ নামে খ্যাত। প্রথম বর্মা যুদ্ধ (১৮২৪-১৮২৬) শেষ হওয়ার পর ব্রিটিশরা তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও তারা কথা রাখেনি। উলটে আহোম অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার
চেষ্টা করে ব্রিটিশরা। এতেই খেপে যান আহোমরা। ১৮২৮ সালে গোমধর কোনয়ারের নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের তীব্রতায় অতিষ্ঠ হয়ে শেষমেশ ব্রিটিশরা মহারাজা পুরন্দর সিংহ নরেন্দ্রের কাছে উচ্চ অসম ও রাজ্যের আরও কয়েকটি এলাকা হস্তান্তর করে একটি সমঝোতা নীতি অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্রিটিশদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন সিংফোসরাও। তাঁরা যখন খাসিয়াদের আন্দোলন দমাতে ব্যস্ত ছিল, সেই সময় বিদ্রোহ ঘোষণা করে সিংফোসরা। তাঁদের এই
আন্দোলন মাত্রই কয়েক মাস স্থায়ী হয়েছিল। যদিও এই স্বল্প সময়ে সিংফোস বিদ্রোহীরা হত্যা করেছিলেন বেশ কিছু ব্রিটিশ দালালকে। ১৮৪৩ সালে সিংফোসের প্রধান নিরং ফিদু ব্রিটিশ গ্যারিসন আক্রমণ করেছিলেন। অনেক সৈন্যকে হত্যাও করেছিলেন। ১৮৪৯ সালে খাসমা সিংফোস অসমের একটি ব্রিটিশ এলাকার বিরুদ্ধে অভিযানও চালান। শেষমেশ এই বিদ্রোহও দমন করে ব্রিটিশ শাসক।
ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বলতম জ্যোতিষ্ক হলেন উত্তর-পূর্ব ভারতের রানি গাইদিনলিউ। নাগা জনজাতি সমাজের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেত্রী ছিলেন রানি। ১৯২৮ সালে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি যোগদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে নাগা যোদ্ধারা। ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ প্রশাসনের হাতে তিনি গ্রেপ্তার হন। তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ব্রিটিশ শাসক। ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর ১৯৪৭ সালে
তাঁর কারামুক্তি ঘটে।
ভারত শাসনের স্বার্থে ইংজেরা অনুসরণ করেছিল ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি। তার জেরেই জমাট বাঁধতে পারেনি বিভিন্ন জনজাতির আন্দোলন। জনজাতিদের হিন্দুদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় বস্তুত তাঁরা নিজেদের অন্ত্যজ বলেই ভাবতে শুরু করেন। ব্রিটিশ মনোভাবাপন্ন হিন্দুরাও নিজেদের
উচ্চবর্ণের বলে জনজাতিদের আন্দোলনে শামিল হননি। যার জেরে প্রায় দুশো বছর ব্রিটিশদের অধীনে পরাধীন থাকতে হয়েছিল ভারতবাসীকে। পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্বলে ওঠে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুন। সেই আগুনে যাতে পুড়ে মরতে না হয়, তাই ভারত ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় ইংরেজরা। আর
ইংরেজদের চালে ক্ষতবিক্ষত হয় ভারতবর্ষ। হিন্দু সমাজ হয়ে যায় টুকরো টুকরো। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৭৮ বছর পরেও সেই ক্ষত শুকোয়নি একটুও, বরং রয়ে গিয়েছে দগদগে। সেই ক্ষত নিরাময় করার কাজ করে চলেছে বনবাসী কল্যাণ আশ্রম ১৯৫২ সাল থেকে।

















