কাশ্মীর থেকে কলকাতা- জঙ্গি উচ্ছিষ্টদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ
পাপের ঘড়া পূর্ণ
নির্মাল্য মুখোপাধ্যায়
অনেকেই মানেন পশ্চিমবঙ্গ জঙ্গি আর জেহাদিদের স্বর্গরাজ্য। ২১ শতাংশ মুসলমান ভোট, তা ভোটবাক্সে ৩৩ শতাংশ হয়ে যায়। শুনেছি ওটাই নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেতার সড়ক। আমার ভাবনা কেবল সাংস্কৃতিক জঙ্গিদের নিয়ে। এক অগ্রজ সাংবাদিক অধ্যাপক মাহমুদ মামদানির ‘গুড মুসলিম ব্যাড মুসলিম’ বইয়ের বাংলা অনুবাদ করেন ‘ভালো মুসলমান, মন্দ মুসলমান’। তাতে তিনটি দুনিয়ার কথা বলা হয়েছে-পশ্চিমি, ইসলামি আর সভ্য দুনিয়া। এই তিন দুনিয়াকে সামনে রেখে তথ্য-সহ দেখানো হয়েছে অসভ্য, বর্বর আর ধান্দাবাজ দুনিয়ার সভ্য কারা? কারা করে অন্তর্ঘাত, কারাই-বা প্রকৃত অস্ত্রধারী আর সাংস্কৃতিক?
এবার সরাসরি বলি, এ রাজ্যের সাংস্কৃতিক জঙ্গিদের ধ্বংস করার সময় এসেছে। গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে নিরীহ হিন্দুদের উপর নৃশংস নরসংহার চালানো হয়। এ রাজ্যের ঔরসে জন্ম অপজাত অন্তর্ঘাতী সন্তানরা তাতে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে যে নিরাপত্তার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে। নাহলে হতো না। সাংস্কৃতিক জঙ্গিদের বক্তব্য হলো- ‘আসলে সন্ত্রাসবাদীদের কোনো ধর্ম নেই। অশান্তি করাই তাদের কাজ।’ বুদ্ধি’বিক্রি’জীবীদের এই দল কতটা নপুংসক আর নির্লজ্জ যে তারা খুনি, জেহাদিদের অভিভাবক ও মুখপাত্র হয়ে তাদের মজহব চালিত সন্ত্রাসবাদী ক্রিয়াকলাপ নিয়ে এই ধরনের চর্চা করে। ভারত বিরোধী কিছু বিদেশি পত্রিকার ধার করা বুলি আউড়ে তারা প্রচার করছে যে, দেশজুড়ে হিন্দুত্ববোধ জাগ্রত হওয়ার কারণেই এমন ঘটনা ঘটছে। তাদের অভিযোগ- হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ও হিন্দুধর্ম তার জন্য দায়ী। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ভারত নাকি হিন্দুরাষ্ট্র।
বহিঃশত্রু পাকিস্তানি জঙ্গিদের পাশাপাশি অন্তর্ঘাতী এই দেশীয় শত্রুদের সম্পর্কে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পাকিস্তানকে আমি ‘পাপী দেশ’ বলেই মনে করি। ১৯৪৭-এর কিছু রাজনৈতিক পাপকর্মের সমাহার থেকেই এই খণ্ডিত দেশটির সৃষ্টি হয়। সবধরনের ভারত বিরোধিতা ঘিরে তৈরি হয়েছিল এই অসম্পূর্ণ, ব্যর্থ দেশটির মেকি জাতীয়তাবাদ। ভারতীয় জাতীয়তাবোধকে কোনোদিন মানেনি ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’-এর বুলি আউড়ানো পাকিস্তান। মোল্লাতন্ত্র আর ইসলামি সন্ত্রাসের মুখে ভারতবর্ষই যে একমাত্র ‘হিন্দু’ প্রতিরোধ, তা তাদের সবচেয়ে বড়ো চক্ষুশূল।
ইসলামি দুনিয়ার বেশিরভাগটাই ঘিরে রয়েছে খ্রিস্টান ও ইহুদি প্রতিরোধ। ইসলামি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত সীমান্ত তৈরি হয়েছে খ্রিস্টান দেশগুলিতে এবং ইহুদিদের দেশ ইজরায়েলে।
এহেন পরিস্থিতিতে জঙ্গি মোল্লারা ভারতকে কবজা করতে চায়। পহেলগাঁওয়ের ঘটনা প্রমাণ করেছে ভারতের পয়লা নম্বর শত্রু পাকিস্তানের হয়ে এ রাজ্যে কিছু সাংস্কৃতিক জঙ্গি-উচ্ছিষ্ট সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বুদ্ধিজীবী সেজে আভাসে-আড়ালে তারা পাকিস্তানের গুণ গাইছে আর ভারতের খেয়ে-পরে ভারতের বুকে বসে ভারতেরই ক্ষতি করে চলেছে। তাতে স্থানীয় প্রশাসনের মদতও রয়েছে।
ভারতের একতা আর অখণ্ডতাকে ধ্বংস করতেই গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে চালানো হয় বেছে বেছে হিন্দুহত্যা। নির্বিচারে চলে নরসংহার। ঘটনার বর্ণনা করতে গেলে এ লেখা রক্তাল্পতায় ভুগবে। এই ঘটনায় এত রক্তপাত ঘটেছে যে তা মুছতে বা পূরণ করতে গেলে পাকিস্তান দেশটাকেই হয়তো ধ্বংস করে ফেলতে হবে। এটা ঠিক যে নিরাপত্তা বিভাগকে কিছু না জানিয়ে বৈসারন উপত্যকা পর্যটকদের জন্য খুলে দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। সে গাফিলতি স্বীকারও করেছে ওমর আবদুল্লা চালিত জম্মু-কাশ্মীর সরকার। স্থানীয় প্রশাসনের এই গাফিলতি ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা আগামীদিনে তা জানার অবকাশ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সেই গাফিলতি পূরণের ব্যবস্থা করবে কেন্দ্রীয় সরকার।
কেন্দ্রীয় সরকারও পহেলগাঁওয়ে নিরাপত্তা গাফিলতির বিষয়টি মেনে নিয়েছে। এ রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে হিন্দু নিধন যজ্ঞ চললেও তৃণমূল সরকারের কোনো হেলদোল নেই। তাই মোথাবাড়ি ও মুর্শিদাবাদে হিন্দু সম্পত্তি লুঠপাট ও হত্যার যে ঘটনা ঘটেছে, তাকে কাশ্মীরের ঘটনার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখছে রাজ্য সরকার ও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। কাশ্মীর থেকে কলকাতা- মুসলমান সন্ত্রাসী ও জেহাদিদের দ্বারা হিন্দু নিধন ও হিন্দু হত্যার যে ধারা চলছে, মুসলমান ভোট ভিক্ষা পাবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা মানবেন না। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উলটো কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কাশ্মীরে নিরাপত্তা গাফিলতি ছিল বলে মেনে নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। মমতা বলছেন তৃণমূল সরকারের কোনো গাফিলতি ছিল না। অথচ রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতিতেই মোথাবাড়ি ও মুর্শিদাবাদে হিন্দু হত্যা এবং হিন্দুদের সম্পত্তি লুঠ হয়। মমতার মতে কাশ্মীরে পাকিস্তানি জঙ্গি আর পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি জঙ্গি। পাকিস্তান যে কাশ্মীরে জঙ্গি পাঠিয়েছিল তা প্রমাণিত। মুর্শিদাবাদ আর মোথাবাড়িতে কারা হিন্দু নিধন ও হিন্দু নির্যাতন চালাল মমতা তা কোনোদিন বলতে পারবেন না। তাঁর মুসলিমি মাথা তাকে আটকে দেবে, আর তাতেই রাজ্য হবে জঙ্গিঘর, জেহাদিদের স্বর্গরাজ্য

















