রাজ্যে শাসকের সন্ত্রাস
গত ৪ অক্টোবর ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধ্বসের কবলে পড়ে উত্তরবঙ্গ। ৩০ জনের ইহাতে প্রাণহানি ঘটে। নিখোঁজ হন আরও অনেকেই। কয়েক
সহস্র মানুষ হন গৃহহীন ও আশ্রয়হীন। ভূমিধসে আক্রান্ত ও বন্যাদুর্গতদিগের সাহায্যার্থে নাগরাকাটা পৌঁছাইয়া যান সাংসদ খগেন মুর্মু, বিধায়ক ড. শঙ্কর ঘোষ-সহ ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যকর্তাগণ। গত ৬ অক্টোবর বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের অভিপ্রায়ে তাঁহারা ওই স্থানে আসেন। এমতাবস্থায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনরত জনপ্রতিনিধি দলের উপর আক্রমণ সংঘটিত করে রাজ্যের শাসক দল আশ্রিত দুষ্কৃতী ও জেহাদিরা। প্রথমে প্রবলভাবে হেনস্থার পর শ্রী মুর্মু ও ড. ঘোষকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়। খগেনবাবুর আঘাত হয় খুবই মারাত্মক ও গুরুতর। কর্তব্যরত দুই জন সিআইএসএফ-এর নিরাপত্তাকর্মীও এই ঘটনায় আহত হন। জনপ্রতিনিধিদিগের যানবাহনের বহরে প্রস্তরখণ্ড নিক্ষেপ করা হয় এবং যান অন্তর্গত যানবাহনেও আঘাত করা হয়। আহত জনপ্রতিনিধিদ্বয়কে চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৮ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে এফআইআর বা প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন রুজু করা হইলেও ‘হত্যার চেষ্টা’র অভিযোগটি উক্ত এফআইআরে নথিভুক্ত করে নাই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। শ্রী মুর্মু জনজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও ‘তপশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন, ১৯৮৯’-এর প্রয়োজনীয় ধারাও এফআইআরে সংযোজিত হয় নাই। ঘটনার পর ‘দ্য ন্যাশনাল কমিশন ফর শিডিউলড্ ট্রাইবস্’-এর সদস্যগণ বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছাইয়া চিকিৎসারত শ্রী মুর্মুর সহিত সাক্ষাৎ করেন। লোকসভার অধ্যক্ষ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিকট এই ঘটনার রিপোর্টও তলব করেন। শাসক দলের প্রত্যক্ষ মদতে এই আক্রমণ সংঘটিত হওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছাইলে তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে অস্বীকার করেন ড. শঙ্কর ঘোষ। এই ঘটনার পর চরম পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। ঘটনায় শাসক দলের যোগ থাকার কারণে বেশ কয়েকদিন কোনো অভিযুক্তই গ্রেপ্তার হয় নাই। প্রবল চাপের মুখে পড়িয়া শেষে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করিতে বাধ্য হয় নাগরাকাটা পুলিশ। তাহারা সকলেই মুখ্যমন্ত্রীর ‘দুধেলগাই’ সম্প্রদায়ের মানুষ।
এই ঘটনায় মূল অভিযোগ হিংস্র জেহাদিদের বিরুদ্ধে। বিগত কয়েক দশক যাবৎ ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলারই
জনবিন্যাস পরিবর্তিত হইয়াছে। রাষ্ট্রবাদী রাজনৈতিক দলের সদস্য, সমর্থক ও জনপ্রতিনিধিগণ এই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অহরহ আক্রান্ত হইতেছেন।
পূর্বেও ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতার যানবহর এই রাজ্যে আক্রান্ত হইয়াছে। নাগরাকাটার
ঘটনা ‘ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র’ বলিয়া প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে রাজ্যের শাসক দলের মুখপাত্রদের পক্ষ থেকে খাড়া করা হইতেছে ‘জনরোষ’-এর এক অদ্ভুত তত্ত্ব! আসন্ন নির্বাচনে জয়ের জন্য তাহারা রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে হাতিয়ার করিয়াছে। বিরোধী দলের নেতৃত্বকে আক্রমণ সেই সন্ত্রাসের উদাহরণ মাত্র।
সন্ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে তাহারা জেহাদিদের ব্যবহার করিতেছে। এই জেহাদিরা হইল শাসক দলের নিশ্চিন্ত ভোটব্যাংক। এই জেহাদিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে
শাসক দল কর্তৃক ব্যবহৃত হইয়া থাকে। শাসক দলের নির্দেশ পালনপূর্বক তাহারা নিজ উদ্দেশ্যও সিদ্ধ করিয়া থাকে। রাজনৈতিক সন্ত্রাসের মুখোশে
পরিচালিত হইয়া থাকে ইসলামিক জেহাদ। জনপ্রতিনিধিদিগের উপর আক্রমণে তাহাদের ব্যবহার করিয়াছে রাজ্যের শাসক দল। ইহার দ্বারা রাজ্যের জনমানসে সন্ত্রাসের বার্তা প্রেরণ করিতেছে শাসক দল। প্রাক-নির্বাচনী পর্যায়ে বৃহত্তর সমাজকে সন্ত্রস্ত রাখাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসক দলনেত্রীর মূল উদ্দেশ্য। রাজ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ নিরাপত্তাহীন হওয়ায় সাধারণ মানুষের আদৌ কোনো নিরাপত্তা রহিয়াছে কিনা তাহা বর্তমানে এক গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন রূপে উঠিয়া আসিয়াছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ এই রাজ্যে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। জেহাদিদের মরুপ্রান্তর হইয়া উঠিতেছে পশ্চিমবঙ্গ। সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য ও জেহাদি সন্ত্রাসের কারণে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শোচনীয়। মহিলারা নিরাপত্তাহীন। রাজ্যের অর্থনীতি অধোগামী। রাজ্য সরকারেরও প্রায় দেউলিয়া পরিস্থিতি। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাও ধ্বংসোন্মুখ। এমতাবস্থায় ‘বিরোধীশূন্য রাজ্য’ করিবার অভিপ্রায়ে মরিয়া হইয়া উঠিয়াছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শাসক দলের দুরভিসন্ধি ব্যর্থ হওয়া অতি আবশ্যক। আগামী বৎসরে অনুষ্ঠিতব্য রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের মাধ্যমে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই ভয়াবহ কুশাসনের অবসানের লক্ষ্যে রাজ্যবাসীর সংগঠিত ও সংকল্পবদ্ধ হওয়া আশু প্রয়োজন।

















